ক্যামেরা দিন দিন আধুনিক ও উন্নততর হচ্ছে। অভাবনীয় সব পরিবর্তন ঘটছে ক্যামেরা নিয়ে। এখন হাতের মোবাইল ফোন দিয়েই চৎমকার সব ছবি তোলা যায়। অনায়াসে প্রিয় কোন মুহুর্তের ভিডিও ধরে রাখা যায়। রেকর্ড করে রাখা যায় গুরুত্বপূর্ণ কথোপকথন। ক্যামেরার এই অগ্রগতি অবশ্যই মানুষের জন্য সহায়ক, যদি না তা অন্যায় কাজে ব্যবহার না হয়।
গার্মেন্ট শ্রমিকদের আন্দোলন চলাকালে পুলিশের হাতে নির্যাতিত হচ্ছে একটি শিশু  ⚈ছবি: ইন্টারনেট
হাতের মোবাইল ফোন দিয়ে মানুষ নিজের প্রয়োজনীয় কাজের পাশাপাশি সমাজের উপকারেও ভূমিকা নিচ্ছেন। যে কোন উপায়ে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পিছপা হচ্ছেন না। অন্যায় দেখা মাত্রই তা মোবাইল ফোনে ধারণ করে ছড়িয়ে দিচ্ছে ফেসবুক, ইউটিউব, টুইটরে। এভাবে কারো অন্যায় কাজের নমুনা ‘ভাইরাল’ হলে অপরাধী রীতিমত সামাজিক চাপের মুখে পড়ছেন। ‘অ্যাকশন’ নিতে বাধ্য হচ্ছে সরকারী প্রশাসন।
এমনকি প্রশাসনের অন্যায়ও ধরা পড়ছে মোবাইল ফোনের ক্যামেরায়। কিছু দিন আগে, পুলিশের নিষ্ঠুরতার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়ে পড়ে। ৩০ সেকেন্ডের ওই ভিডিওতে দেখা যায়, বঙ্গ ভবনের সামনের সড়কে একটি কম বয়সী মেয়েকে দুজন পুলিশ সদস্য মারধর করছেন। সে সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন ট্রাফিক পুলিশের একজন কনস্টেবল।

ঘটনাটি নিয়ে ‘প্রথম আলো ডটকম’ গত ০৭ ফ্রেব্রুয়ারি ২০১৮ তারিখে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। ওই প্রতিবেদন থেকে মেয়েটিকে মারধর করার আসল কারন জানা যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ‘ঢাকা মহানগর পুলিশের কর্মকর্তারা বলছেন, আজ সকালে ওই পথ দিয়ে একজন অতি গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির (রাষ্ট্রপতি) যাতায়াতের কথা ছিল। এ জন্য সড়ক ফাঁকা করা হচ্ছিল।’
পুলিশের হাতে শিশুদের মারধর করার এমন ছবি এর আগেও ভাইরাল হয়েছে। একজন সেনা সদস্যের স্ত্রীর হাতে নিগৃহীত শিশুর ছবি ভাইরাল হলে ওই নারীকে বিচারের মুখোমুখো হতে হয়। শিশু নির্যাতনকারী একজন ক্রিকেটারও এক্ষেত্রে ছাড় পায়নি।
নিরাশাবাদীরা প্রশ্ন করতে পারেন, ভাইরাল হলেই কি অন্যায়-নির্যাতন বন্ধ হয়ে যাবে? শিশু নির্যাতনের ছবি ভাইরাল হওয়ার গুণে নির্যাতন কমেছে বলা না গেলেও প্রশাসনের সামান্য হলেও টনক নড়েছে। সামাজিক চাপের মুখে পড়েছেন নির্যাতনকারীরা। যে কারো অন্যায়ের তথ্য, ছবি ভাইরাল করে প্রতিবাদ করার এই প্রচেষ্টা ধরে রাখা সকলের দায়িত্ব। ধারাবাহিক প্রতিবাদ প্রতিরোধের মুখে অবশ্যই তাদের হাত গুটিয়ে আসবে।
সম্প্রতি আরও একটি ঘটনা সামাজিক মাধ্যমগুলোতে ছড়িয়ে পড়ে। সে ভিডিওতে দেখা যায়, একজন ‘স্বনামধন্য’ সাংবাদিক নেতার প্রাইভেট কার ট্রাফিক আইন ভঙ্গ করে। সে অপরোধে ট্রাফিক পুলিশ পরীক্ষা নিরীক্ষার জন্য গাড়ির কাগজপত্র চায়। তখন পুলিশের সঙ্গে উত্তপ্ত বাক্য বিনিময় করেন ওই সাংবাদিক নেতা।
এক পর্যায়ে তিনি দেখতে পান রাস্তার পাশ থেকে কেউ একজন ঘটনাটি ভিডিও করছেন। সাংবাদিক নেতা তেড়ে গিয়ে ওই ভিডিও ধারণকারীর পরিচয় জানতে চাইলে তিনি উত্তর দেন, ‘আমি উৎসাহী জনতা।’ এ সময় সাংবাদিক নেতা তাঁর গায়ে হাত তোলারও চেষ্টা করেন।
এমন উৎসাহী জনতাদের কারণে জনগণের নজরদারিতে এসেছে সাংবাদিক নেতার উল্টোকাণ্ড, নেতাদের বেফাঁস কথা ফাঁস হয়ে পড়ছে। জনগণের কাছে আড়াল করে রাখা তথ্য খোলাসা হয়ে পড়ছে।

‘নিউ মিডিয়া’র* এই উপকারীতা দিন দিন আরো প্রসারিত হচ্ছে। কার্যকর হচ্ছে এর ইতিবাচক ব্যবহার। এর ফলেই বর্তমান দুনিয়ায় সংবাদ প্রচারের জন্য হাতের মোবাইল ফোনকে আর উপেক্ষা করা যাচ্ছে না। এমনকি উৎসাহী জনতাদের হাতে ভাইরাল হয়ে পড়া ঘটনা নিয়ে কথা বলতে বাধ্য হচ্ছে বিবিসি, আলজাজিরার মত সংবাদ মাধ্যম।


*নিউ মিডিয়া : ফেসকুব, টুইটর, ইউটিউব ইত্যাদি
দেখনু : http://www.policebrutality.info/

Leave a Reply

Subscribe to Posts | Subscribe to Comments

যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে বৃটিশ তারকারা

তহবিলে ১০ লাখ পাউন্ড দিয়েছেন হ্যারি পটার ছবির তারকা এমা ওয়াটসন  ©  verilymag.com বিশ্বে প্রতিনিয়ত বাড়ছে যৌন হয়রানি। শিশুরাও এর হাত থেক...

- Copyright © উৎসাহী জনতা - Blogger Templates - Powered by Blogger - Designed by Johanes Djogan -